Octa FX এর আদিঅন্ত

বহু আগে octafx এ আমার এক পরিচিত ভাইয়ের ভেরিফাইড একাউন্ট পুনরায় ভেরিফাই করতে বলে। এর আগের প্রেক্ষাপট না বললে ক্লিয়ার হতে পারবেন না। উনি octafx এ হাজার দশেক ডলার ডিপোজিট করেছিলেন লিবার্টি রিজার্ভ পেমেন্ট প্রসেসর ব্যবহার করে। লিবার্টি রিজার্ভ চলে যাবার পরেই মূলত ঘটে দুর্ঘটনা। উনার একাউন্টে বেশ ভালো প্রফিট হচ্ছিল নিয়মিত। প্রতি সপ্তাহেই ভালো এমাউন্ট উত্তোলন হতো। কিন্তু লিবার্টি চলে যাবার পর নতুন করে উইথড্র দেবার সময় হলো সমস্যা। উনি সব ফান্ড উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারন তার এন্ট্রি এক্সিট টাইমে স্প্রেড ১০-২০ পিপস করে বাড়িয়ে দিতো ব্রোকার থেকে। তারপর যখন দেখা গেল এভাবে ট্রেড কনটিনিউ করা পসিবল না তখনি ফান্ড তুলে নেবার কথা ভাবলেন। তারপর ব্রোকারে একাউন্টের সময় যা যা দিয়েছিলেন ঠিক সেগুলো নোটারি পাবলিক করে তাদের পাঠাতে বলে।

octafx এর হেড অফিস কোথায় কেউ কি খেয়াল করেছেন?
– St. Vincent and the Grenadines

গুগল ম্যাপে একটু দেখে নিলে বুঝবেন সমুদ্রের মাঝে ছোট একটা দ্বীপের মতো জায়গা। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম এরকম ছোট একটা শহরে বসে তারা ব্রোকারটা চালাচ্ছে। যখন তাদের এগ্রিমেন্ট দেখলাম তখন বুঝলাম সেই ছোট দেশের রেগুলেশন নিয়ে তাদের মূল যাত্রা। যদি আইন আদালত করতে হয় তাহলে যেতে হবে সেই দ্বীপে। আমরা কয়জন আর কাস্টমার এগ্রিমেন্ট পড়ি। ওখানে কিন্তু সব বলা থাকে। যদি নিজের রিয়েল ইনফো, ডকুমেন্টস থাকে তাহলে বিপদের সময় সলুশনটা সহজ হয়।

তারপর অনেক ঝক্কি ঝামেলার পর DHL এ করে সব ডকুমেন্ট উকিল দিয়ে নোটারি করে পাঠানোর পর তারা রিসিভ করে সফলভাবে। তারপর সেই উইথড্র তারা ব্যাংকে দেয় ধীরে ধীরে। এখন যদি সেই ট্রেডার ভাই শুরুতে ভুয়া ডকুমেন্ট দিতো এবং সেটার যথাযথ প্রমান না দেখাতে পারতো তাহলে কি অবস্থা হতো ভেবে দেখেন।

এখন আসেন আরেকটা কাহিনী বলি।

dukascopy bank এর নামতো কমবেশি সবাই জানেন। আমি একাউন্ট করার জন্য প্রপারলি আবেদন করলাম সব ডকুমেন্ট নিয়ে। তারা ভিডিও কল করে আমার স্মার্ট কার্ড, পাসপোর্ট, ব্যাংক ষ্ট্যাটমেন্টের ছবি নিল ভিডিও কলে কথা বলল। তারপর সেই স্টেপ পার হবার পর পরের দিন বলছে, আমি যে রোহিঙ্গা নই এই মর্মে থানা থেকে একটা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তাদের দিতে হবে। তারপর তারা ভেরিফাই করবে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন? মিডিয়াতে অনেক খবর এসেছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট বানিয়ে অনেক দেশে যাবার চেষ্টা করেছে, ধরা পড়েছে এখন আমি রোহিঙ্গা নই এই মর্মে প্রত্যয়ন নিতে হবে থানা থেকে। এখন ঢাকাতে কোন থানায় গিয়ে যদি এটা বলি তাহলে ঘটনা কোনদিকে যাবে কে জানে। বিষয়টা সেখানেই স্থগিত রেখে দিয়েছি। এজন্য আমি সব সময় জোর দিচ্ছি যেখানে যাই দিন রিয়েল ডকুমেন্ট দিন। আর সামনের দিনগুলোতে যদি রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান না হয় তাহলে বলা যায় না কোন এক সময় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সব ব্রোকার এইরকম ডকুমেন্ট যে চেয়ে বসবে না তার গ্যারান্টি কি।

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap