ড্র ডাউন কেন কন্ট্রোল করতে পারি না?

ফরেক্স ট্রেডের কয়েকটা ধাপে আমাদের ইমোশন নষ্ট হয়। তারপর ধীরে ধীরে অনেকে নিজেতে গুছিয়ে নিতে পারে আবার কেউ হয়তবা আর না গুছাতে পেরে হারিয়ে যায়। আমি কয়েকটি পর্যায়ে বিষয়টা উপস্থাপন করলাম:

পর্যায় ১: নতুন কোন ছেলে / মেয়ে যখন ট্রেডিং শুরু করে তখন জানতে পারে এখান থেকে প্রতি মাসে ৩০% – ৪০% গেইন করা একদম সহজ। এজন্য দায়ী হচ্ছে বিভিন্ন ব্রোকারের কতিপয় আইবি ব্যবসায়ীরা। তারা সামান্য কমিশনের আশায় এমন সব চটকদার বিষয় উপস্থাপন করে যাতে মনে হয় ফরেক্স তো খুব সোজা, বাই দিবেন, সেল দিবেন আর প্রফিট। কেউ কোনদিন এই পর্যায়টাতে বলে না ফরেক্স ব্যবসা অনেক রিস্কি, এটাতে মূলধন পর্যন্ত হারাতে পারেন।

পর্যায় ২: বিভিন্ন ব্রোকারের নো ডিপোজিট বোনাস / ডিপোজিট বোনাসের কারনেও অনেকের সাইকোলজির ১৩ টা বেজে যায়। সব ধরনের বোনাস, কনটেস্টে আপনাকে ধরিয়ে দেয়া হয় টার্গেট অথবা প্রথম হতে পারলে বিশাল অংকের পুরস্কার। জয়ী হবার অভিপ্রায়ে বড় বড় লট সাইজে ট্রেড, অভারট্রেড করে নিজের সাইকোলজিটাকে আরো ভোতা বানিয়ে ফেলে এই পর্যায়টাতে।

পর্যায় ৩: এই পর্যায়ে ট্রেডারের একটা বড় ধরনের লস করার ফলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে টুকটাক জ্ঞান লাভ করে। তখন বুঝতে পারে এতদিন যে গেইনের পেছনে ছুটেছে সেসব ছিল মরিচিকা। কিন্তু এখন তার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকলেও নেই প্রপার ফান্ড। তারপরো অনেক ট্রেডার এই পর্যায় থেকে বাউন্স বেক করতে সক্ষম হয়। তখন বুঝতে পারে মাসে ৫% – ৬% গেইন যদি নিয়মিতও আনা যায় তাহলেও অনেক।

আপনি কোন পর্যায়ে আছেন?

আমি বিভিন্ন সময় একটা কথা বলি, সব ব্যবসা বা সব কাজ সবার জন্য না। ফরেক্স সুপার রিস্কি একটা ব্যবসা। এখানে যদি আপনি আপনার মূলধনের প্রটেকশনের কথা না ভাবেন তাহলে পুরো মূলধন হারিয়ে সর্বশান্ত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই আসুন ৬ মাসে, ১বছরে একাউন্ট ডাবল ট্রিপল করার দিকে মন না দিয়ে প্রপার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মেনে ট্রেড করার চেষ্টা করি। গেইন যা আসে তাতেই খুশি থাকি। যদি গেইন বেশি লাগে তাহলে ডিপোজিট বাড়াই, রিস্ক না বাড়াই।

2 thoughts on “ড্র ডাউন কেন কন্ট্রোল করতে পারি না?

Comments are closed.

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap